কুয়েতের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন মার্কিন সেনা ও ঠিকাদার আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। হামলায় মার্কিন বাহিনীর দুটি অত্যাধুনিক ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) এক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালে প্রায় পাঁচজন আহত হন, যাদের মধ্যে মার্কিন সামরিক সদস্য ও বেসামরিক ঠিকাদার রয়েছেন। তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় মার্কিন বাহিনীর দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। এর মধ্যে একটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং অন্যটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ফাতেহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ মার্কিন নিয়ন্ত্রিত আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির ওপর পড়ে, যার ফলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই সর্বশেষ এই ঘটনাটি ঘটল। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করে, ইরান কুয়েতের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলাকে চলমান যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন বরে বর্ণনা করে সেন্টকম।
তবে পরে এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই মার্কিন ঘাঁটিটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাদের দাবি, ওই ঘাঁটি ব্যবহার করে এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা চালানো হয়েছিল।
আইআরজিসি আরও জানায়, একই দিন সকালে মার্কিন বাহিনী বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি এলাকায় আকাশপথে হামলা চালায়। এর জবাব হিসেবেই কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। বাহিনীটি সতর্ক করে দিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করে, ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের আরও কঠোর জবাব দেয়া হবে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির দায় সেই পক্ষকেই নিতে হবে, যারা প্রথমে শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেবে। সূত্র: প্রেস টিভি
