‘জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্য ও বিদ্রোহের প্রতীক। তাঁকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও নান্দনিক ও আধুনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরতে এবারের আয়োজনকে ভিন্নমাত্রায় সাজানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এবং দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। কথাগুলো বলেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি সোমবার (১১ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী জাতীয়ভাবে উদযাপন উপলক্ষে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। পাঁচ দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে পুরো ত্রিশালজুড়ে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের রাশেদুল ইসলাম কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ মোঃ মাহবুবুর রহমান লিটন, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী এনডিসি।
সভায় জানানো হয়, পাঁচ দিনব্যাপী জাতীয় নজরুল জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানস্থল প্রস্তুত, নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও অবকাঠামোগত নানা কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুত শেষ করা হবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডাঃ মোঃ মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। সবকিছু ঠিক থাকলে এবারই ত্রিশালে সবচেয়ে জমকালো ও উৎসবমুখর নজরুল জয়ন্তী অনুষ্ঠিত হবে।
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানে নজরুলের গান, কবিতা, সাহিত্য, নাটক ও আলোচনা সভার মাধ্যমে নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত হবে’।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ত্রিশালে এত বড় পরিসরে জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করায় পুরো বিভাগে উৎসবের আমেজ বইছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে বিভাগের বিভিন্ন জেলা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সংস্কৃতিও তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে’।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান জানান, অনুষ্ঠান সফল করতে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, পাঁচ দিনব্যাপী এ আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী নজরুল মেলা, স্মারক আলোচনা সভা এবং দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, উৎসবের শেষ দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর। এছাড়া প্রতিদিন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারমোহাম্মদ কামরুল কাহান, ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমকর্মীগণ।
