চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী বা অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য থাকবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার (৩১ মে) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির এবং বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে যে ‘দুর্বৃত্তের রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছিল, তার একটি প্রত্যক্ষ নমুনা এই জঙ্গল সলিমপুর। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রামে কিছু ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে অত্যাধুনিক অস্ত্রে গুলি বর্ষণ ও চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটলে সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ মার্চ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিজস্ব পাহারা বসিয়ে সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরে যে সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, তা যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে তথ্য ফাঁসের কারণে অভিযানের মূল লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া র্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার দুঃসাহসের পেছনে থাকা ভূমিদস্যু ও মূল ইন্ধনদাতাদের কঠোরভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা জনগণের সরকার। বিভিন্ন কারণে যারা এখানে এসে বসতি স্থাপন করেছেন, তাঁদের কাউকেই আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না। প্রকৃত বাসিন্দাদের টেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।” তিনি উচ্ছেদ সংক্রান্ত যেকোনো অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।
জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক উন্নয়নে রোড নেটওয়ার্ক তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, সলিমপুর ইউনিয়নের সাথে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সংযোগ ঘটিয়ে একটি আধুনিক সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এখানে পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর জন্য অবকাঠামো তৈরি এবং বায়েজিদ লিংকের খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ঝুলে থাকা প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি বেতুয়া ও চা বাগান এলাকা থেকেও সন্ত্রাসীদের চিরতরে নির্মূল করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
