স্টাফ রিপোর্টার :
অবশেষে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দীঘির আলোচিত ও কথিত ‘ধলাপাহাড়’ হিংস্র কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কুমিরটি খুলনা বন্যপ্রাণী রেসকিউ সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসা শেষে এটিকে করমজলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি মাজারের দীঘিতে কুমিরের হামলায় এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কুমিরটিকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
জানা গেছে, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কুমিরটিকে মাজার এলাকার দীঘি থেকে সরিয়ে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনা রেসকিউ সেন্টারে নেওয়া হয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুমিরটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর নিরাপদ পরিবেশে করমজলে স্থানান্তর করা হবে, যেখানে এটি বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকবে।
এদিকে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের সতর্কতার সঙ্গে দীঘির আশপাশে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, ধলাপাহাড় কুমিরটিকে করমজলে স্থানান্তর করা হলে মাজার এলাকায় আগত হাজারো দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘদিনের আতঙ্কের অবসান ঘটবে।
