প্রতিটি মানুষের অধিকার রয়েছে নিজের মতো করে বাঁচার, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার এবং পরিবার ও সমাজের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার। কিন্তু অসুস্থতা, প্রতিবন্ধিতা কিংবা শারীরিক ও মানসিক সীমাবদ্ধতা যখন দৈনন্দিন জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন প্রয়োজন হয় এমন একটি পুনর্বাসনসেবার, যা মানুষকে শুধু সুস্থ হতে নয়, জীবনে ফিরে আসতেও সহায়তা করে। অকুপেশনাল থেরাপি সেই যাত্রারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রতি বছর ২৭ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব অকুপেশনাল থেরাপি দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘Participation Matters’ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দৈনন্দিন কাজ, শিক্ষা, কর্মজীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও জীবনমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অকুপেশনাল থেরাপি অসুস্থতা, আঘাত, প্রতিবন্ধিতা কিংবা বিকাশগত ও মানসিক চ্যালেঞ্জের কারণে দৈনন্দিন কাজে সমস্যায় পড়া মানুষকে আরও স্বাধীন জীবনযাপনে সহায়তা করে। ব্যক্তির সক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী থেরাপি, কাজের অভিযোজন এবং পরিবেশের পরিবর্তনের মাধ্যমে এই পেশা মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ায়।
বাংলাদেশে এই সেবার অন্যতম চ্যালেঞ্জ প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত জনবল। বিশ্ব অকুপেশনাল থেরাপিস্ট ফেডারেশনের প্রকাশিত তথ্যে দেশে ৪৯৬ জন অকুপেশনাল থেরাপিস্টের উল্লেখ রয়েছে। ২০২১ সালের একটি গবেষণায় প্রতি ১০ লাখ মানুষের বিপরীতে মাত্র ১.৩ জন অকুপেশনাল থেরাপিস্টের হিসাব পাওয়া যায়। এই পরিস্থিতি পুনর্বাসনসেবার সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ পেশাজীবীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
একজন অকুপেশনাল থেরাপির শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, মানুষকে তাঁর সীমাবদ্ধতা দিয়ে নয়, সম্ভাবনা দিয়ে দেখা জরুরি। এই বিশ্ব অকুপেশনাল থেরাপি দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক সবার জন্য অর্থবহ কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা। কারণ, পুনর্বাসনের লক্ষ্য শুধু সক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া নয়, মানুষকে নিজের জীবনে সক্রিয়ভাবে ফিরতে সহায়তা করা।
লেখক-
তানিয়া রহমান তনু
বিএসসি ইন অকুপেশনাল থেরাপি, ২য় বর্ষ, অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগ
ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি এণ্ড হেলথ সায়েন্সেস
