ঢাকাশনিবার , ১০ অক্টোবর ২০২৬
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্যপ্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশেষ সংবাদ
  7. রাজনীতি
  8. লাইফস্টাইল
  9. শিক্ষাঙ্গন
  10. সারাদেশ
  11. সাহিত্য
  12. স্বাস্থ্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গফরগাঁওয়ে ভন্ড পীরের আস্তানায় অনৈসলামিক কার্যকলাপ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

প্রতিবেদক
বার্তা বিভাগ
অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৪:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার ময়মনসিংহ ;

ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের বীরখারুয়া গ্রামের খৈয়ারপাড় এলাকায় তথাকথিত ভন্ডপীর রহিম বাবার নামে বালিশের তৈরী কবর পূজা এবং ওরসের নাম করে শিরক বেদআত ও অনৈসলামিক কার্যকলাপ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে গফরগাঁও উলামা সমিতি (গউস)।

শনিবার বেলা ১২ টায় গফরগাঁও প্রেসক্লাব এবং পাগলা থানার সামনে এই মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন; মুফতি আনোয়ার মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক, গফরগাঁও উলামা সমিতি, মোঃ আনোয়ার হোসেন আসআদী, সিনিয়র সহ সভাপতি, মোঃ হাবিবুল্লাহ, ওবায়দুল্লাহ উদয়পূরী সহ গফরগাঁও উলামা সমিতির অনান্য সদস্য এলাকাবাসী এবং খৈয়ারপাড় জামে মসজিদ কমিটির সদস্যগণ।

আগামী ১২ অক্টোবর ভন্ডপীরের আস্তানায় ওরশ আয়োজনকে সামনে রেখে এলাকাবাসী ও ওরশ আয়োজকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ ঘটনা ঘটতে পারে। এ সব ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষে মসজিদ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

এদিকে জানা যায়, কথিত পীরের আস্তানায় বালিশের তৈরি কবর পূজা নিয়ে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সংবাদের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গফরগাঁও (পাগলা) থানা থেকে সরেজমিনে প্রতিনিধি পাঠানো হয়। এ সময় আস্তানায় পূজারীরা বালিশ সরিয়ে ফেলে তবে অন্যান্য আলামত ছবি তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এসময় স্থানীয় ভন্ডপীরের লোকেরা চড়াও হয়ে হাত -পা ভেঙ্গে দেয়ার ও রক কেটে ফেলার হুমকি এবং গালিগালাজ করে উপস্থিত মসজিদ কমিটির সদস্যদের। এবং এর পরদিন শুক্রবার সকালেই আবার বালিশ স্থাপন করেছে বলে জানা যায় যা প্রশাসনকে অবগত করেছে এলাকাবাসী।

এদিকে জানা যায়, এলাকায় কিছু রাজনৈতিক পরিচয়ধারী লোকজন ভন্ডপীরের আস্তানায় এসে বিশাল অংকের টাকা পয়সা নিয়ে প্রেক্ষপট পরিবর্তনের জন্য মসজিদ কমিটির মুরুব্বিদেরকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিলার বাজারের কিছু বখাটে যুবক যারা স্থানীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত তারা মসজিদ কমিটির মুরুব্বিদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মসজিদ কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অন্য মুসল্লিগণ তাদের অবস্থানে অনঢ় রয়েছেন ।

দায়ের করা অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বীর খারুয়া গ্রামের খৈয়ারপাড় এলাকার মৃত মোতালেব উপজেলার মশাখালী রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন চাইরবাড়িয়া বাজারে দর্জি পেশায় নিয়োজিত ছিল। গত বছর মার্চ মাসে মোতালেব মারা যায়। মোতালেব মারা যাওয়ার পর মোতালেবের ছেলে মো. নাজমুল (৪৫) তার বাড়িতে একটি ঘরে খাটের উপর বালিশ স্থাপন করে তার ওপরে লালসালু কাপড় বিছিয়ে কবরের আকৃতি তৈরি করে। আবার নাজমুল বালিশ দিয়ে তৈরি কবরের পাশেই তার পিতা মৃত মোতালেবের কবরের উপর ঘর নির্মাণ করে এবং লালাসালু কাপড় বিছিয়ে মাজারের আকৃতি দিয়েছে। তাদের পরিবারের লোকজন নিয়ে কবরে নিয়মিত সিজদা করে ও গ্রামের লোকজনকে সিজদা করতে প্ররোচিত করে বলে অভিযোগে উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কথিত মৃত মোতালেবের কবরের উপর ঘর তৈরি করে মাজার নাম দিয়ে এই মাজার ও তার আশেপাশে নিয়মিত ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ, মাদক ক্রয়-বিক্রয়, জুয়ার আসরসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে এলাকায় সামাজিক ও ধর্মীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও সপ্তাহের প্রতি সোমবার রাতের বেলায় ওই আস্তানায় আসর জমানো হয়।

খৈয়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন সরদার বলেন, এই বির্তকিত ওরশ শরীফ, মাদক ও জুয়ার আড্ডা বন্ধ করতে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করি।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ গফরগাঁও উলামা সমিতি (গউস) এর সাধারণ সম্পাদক মুফতি আনোয়ার মাহমুদ জানান, এই বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবহিত হয়েছি, এলাকাবাসী এবং মসজিদ কমিটি প্রশাসনিক ব্যাবস্থার জন্য উপজেলা নির্বাহী বরাবর আবেদন জানিয়েছেন, আমরা গফরগাঁও উলামা সমিতির পক্ষে এই অসামাজিক, ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবো।

দক্ষিন গফরগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল নাইম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়। আইন-শৃঙখলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না ঘটে সেদিকে প্রশাসনের সার্বক্ষনিক তদারকি রয়েছে।