• বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

নতুন উত্তেজনা শুরু, ইরানের সব বন্দর অবরোধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৩৮ Time View
Update : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, সোমবার থেকে ইরানের সব সমুদ্রবন্দরে অবরোধ কার্যকর করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ব্যর্থ আলোচনার পর এই পদক্ষেপ নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। খবর আলজাজিরার।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, ১৩ এপ্রিল সকাল থেকে ইরানের সব বন্দরে যাওয়া-আসা করা জাহাজগুলো এই অবরোধের আওতায় পড়বে। অর্থাৎ, যে কোনো দেশের জাহাজ যদি ইরানের বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে চায়, তা নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়বে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ ইরান ছাড়া অন্য দেশের বন্দরে যাতায়াত করবে, তাদের চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আগের চেয়ে কিছুটা সীমিত আকারে অবরোধ বাস্তবায়নের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরো হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সামরিক বাহিনীর বর্তমান অবস্থান কিছুটা ভিন্ন, যা পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিও তৈরি করেছে।

এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারের বেশি হয়। একইভাবে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অন্যদিকে, ইরান এই পদক্ষেপকে সরাসরি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, কোনো সামরিক জাহাজ ইরানের কাছাকাছি এলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দীর্ঘ আলোচনার ব্যর্থতার পরই এই অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে যে কোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category